ঝুম বৃষ্টিতে শ্রীরামপুরের ঝুপড়িতে


আশিকুর রহমান প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৫, ২০২৩, ৬:৩২ অপরাহ্ণ /
ঝুম বৃষ্টিতে শ্রীরামপুরের ঝুপড়িতে

আশিকুর রহমান: আমরা সময়ে-অসময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট অফিসে বসে গল্প করি। সেদিনও রোভারডেনে বসে গল্প করছিলাম। শান্ত-শীতল আবহাওয়া, সবার ফুরফুরে মেজাজ। হঠাৎ অনু আপু বললেন ‘চল কোথাও ঘুরতে যাই’। এক কথাই যেন অবাক দৃষ্টিতে সবার চোখ গেল অনু আপুর দিকে। ওয়ালিউল্লাহ ভাই ( সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) বললেন, সবাই গেলে আমি যাবো, আমার সমস্যা নেই। একে একে রুহুল আমিন ও তুহিন সহমত পোষণ করল। গল্প করছিলাম বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইবি শাখার অনু আপু, হাবিব ভাই, আজহার ভাই, তুহিন ও রুহুল আমিন। হঠাৎ সিদ্ধান্ত সকলে শ্রীরামপুরের কাঠের ব্রীজে ঘুরতে যাবো। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ২ কি.মি দক্ষিণ-পূর্বে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে এ নৈসর্গিক দৃশ্যের অবস্থান। ওয়ালিউল্লাহ ভাই সবাইকে সময় দিলেন রেডি হয়ে আসার জন্য। আমিও রুমে আসলাম। রুমে আসার পরক্ষণেই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। মনে মনে ভাবছি- ধুর! আজ আর যাওয়াই হবেনা, তবু ওয়ালিউল্লাহ ভাইকে ফোন দিলাম। ওয়ালিউল্লাহ ভাই বললেন, আজ বৃষ্টি হচ্ছে রে, অন্যদিন যাবো। তখন রেডি না হয়ে শুয়ে পড়লাম। একটু পরেই বৃষ্টি থামল। হঠাৎ ফোনের টুংটুং শব্দ। তুহিন ফোন দিয়ে বলল- আশিক রেডি হ আমরা রওনা দিচ্ছি, তুই রাস্তায় ভ্যানে উঠবি। তৎক্ষণাৎ রেডি হয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে আছি, ভ্যানে সবার আগমন। আমিও ভ্যানে উঠলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর সকলের ফুরফুরে মন। হঠাৎ মেঘের ডাকে যেন ভ্যানেই শুরু হলো আমাদের সাংস্কৃতিক পর্ব। আমি আমার ভাঙ্গা গলায় গান ধরলাম ‘সাদা সাদা কালা কালা’। আমার সাথে সবাই গান ধরল আর মিটিমিটি করে গাইতে গাইতে পৌঁছলাম কাঠের ব্রীজে। ব্রীজের চারপাশের পরিবেশ ও আবহাওয়ায় যেন তুহিনের সেলফি তোলার মহড়া লেগেছিল, তাকে আর আটকাতে পারে কে!

শ্যামলী তানজিন অনু

একে একে সকলের ছবি তুলে দিচ্ছে অনু আপু অথচ আমি আর ওয়ালিউল্লাহ ভাই যেন সিরিয়ালই পাচ্ছিলাম না। নদীর উপরে নানা রঙের নকশায় সজ্জিত কাঠের সেতু, নিচে প্রবহমান জলস্রোতে যেন সবার মনে বসম্তের সঞ্চার করছে। বেলা শেষে রাখাল তার গরুর দল সাঁতার কেটে পাড় হচ্ছে। এ দৃশ্য উপভোগ করছি আর আবৃত্তি করছি ‘পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি; দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি’। গ্রাম বাংলার এ অপরুপ দৃশ্য, কাঠের ব্রীজ আর চারপাশের আবহাওয়ার সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেন নিবিড় সম্পর্ক হয়ে উঠেছে। মনের বসন্তে সময় পেলেই ইবির শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় শ্রীরামপুরের কাঠের ব্রীজ ও ঝুপড়িতে। আমরা বসলাম ছোট ঝুপড়ি আকৃতির কুঁড়েঘরে। সেখানে গানের আসর বসালেন হাবিব ভাই। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ঝুম বৃষ্টি আর চারপাশে গ্রাম বাংলার প্রকৃতির শান্ত শীতল পরিবেশ যেন গানে মুখরিত। আমাদের গানের সুরে যেন তাল মেলাচ্ছিলো মেঘের গর্জন। শান্ত-শীতল আর প্রকৃতির নিস্তব্ধ রুপ হয়ে উঠেছিল কোলাহলপূর্ন। তবে কোলাহলের মধ্যেও ওয়ালিউল্লাহ ভাই যেন নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ; মনে হচ্ছিল বিরহের বাসনায় ভগ্ন হৃদয়ে উপভোগ করছিলেন আমাদের গান। একটু পরপর ঠোঁটের কোণের মিটিমিটি শব্দও শুনতে পারছিলাম। এসব স্মৃতি হিসেবে ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি করছিলেন- অনু আপু। অনু আপু ভালো ফটোগ্রাফি করেন। এক পর্যায়ে তো আমি বলেই ফেললাম ‘অনু আপু আমাদের পারসোনাল ফটোগ্রাফার’। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে আমাদেরও ফেরার সময় ঘনিয়ে আসছিলো। বৃষ্টিতেও সবার মনে যে বসন্তের ছোঁয়া তা ক্রমেই মলিন হতে লাগলো আর মনে হচ্ছিল আবার ফিরব কোন ঝুম বৃষ্টিতে অপরুপ-এ শ্রীরামপুরে।

 

প্রকাশিত: প্রতিদিনের সংবাদ |প্রকাশকাল: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
লিংক:
https://epaper.protidinersangbad.com/

FB IMG 1692101983558