বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবে স্মরণীয় দিন


Mamun Misbah প্রকাশের সময় : আগস্ট ১৩, ২০২৩, ৩:২৪ অপরাহ্ণ /
বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবে স্মরণীয় দিন

বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবে স্মরণীয় দিন

মামুন মিসবাহ: সকালে তাড়াতাড়ি উঠে মাঠের দিকে রওয়ানা হলাম। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রথমবারের মতো কোন ক্রীড়া উৎসবে অংশগ্রহণ করছি। তাই বেশি এক্সাইটেড। সকালের নাস্তাও করিনি। এদিকে জুঁই আপু হঠাৎ কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় তুই? বললাম, আসছি। তাঁর কল দিয়ে খোঁজ করাটাও আরো আগ্রহী করে তুললো আমায়। অস্থিরচিত্তে দ্রুত ছুটলাম ফুটবল মাঠের দিকে।

সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম আমার আগেই অনেকে পৌঁছে গেছে। সবাই খুব উচ্ছ্বসিত। সকলের সাথে হাসিমুখে সালাম দিয়ে মোসাফাহা করলাম। তরিক ভাই, জুঁই আপু, সানী ভাইসহ সবাই আমাকে দেখে মুচকি হেসে হাল জিজ্ঞেস করলেন, মামুন! কী অবস্থা? কেমন আছো? আমিও দুই ঠোঁটে একচিলতে হাসি টেনে সুন্দরভাবে আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি, বলে উত্তর দিলাম।

সকলের মাঝে ফুটবলউন্মাদনা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে চলছিলো রসাত্মক সব উত্তেজনাভরপুর বিতর্ক। আমিও তাদের সাথে জুড়ে থাকার চেষ্টা করছিলাম। যেহেতু এখনো উৎসব শুরু হয়নি। কিছুক্ষণ না যেতেই জুঁই আপু ডেকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললো; সকলের সিগনেচার কালেক্ট করো। আমিও সাধু বান্দার মতো পাঁচকেজি ওজনের মাথাটা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলে কাজে লেগে পড়লাম। সকলের কাছে গিয়ে গিয়ে সিগনেচার নেয়া শুরু করলাম।

একটু পর ছেলেদের খেলা শুরু হলো। মিনি ম্যারাথন। ছেলেরা যেহেতু অনেকেই উপস্থিত। তাই, দেরি না করে প্রতিযোগিতা শুরু হলো। আমাকেও বললো অনেকে অংশগ্রহণ করতে; কিন্তু আমি না করে দিলাম। বললাম, আমার দ্বারা হবে না। বহুবছর হলো দৌড়াই না কখনো। তাও আবার না খেয়ে আছি এখনো। ইবির ডায়না চত্বর থেকে দৌড় শুরু হলো। এই সুযোগে আমি মেইন গেট থেকে কিছু খেয়ে আসলাম। এসে দেখি তারা পৌঁছে গেছে। আবার তাদের কাছে গিয়ে খাতায় সিগনেচার নেয়া শুরু করলাম। সেই সাথে টাকা তোলার দায়িত্বটাও পড়ে গেলো আমার উপর। টেবিলবরাবর একটা চেয়ার নিয়ে বসে গেলাম টাকা তুলতে। একে একে সবাই এসে নাম লিখিয়ে টাকা দিয়ে যাচ্ছিলো। আমারও খুব আনন্দ কাজ করছিলো কাজ করতে পেরে।

টাকা তোলার সময়-ই শুরু হলো সম্মিলিত খেলা হাড়ি ভাঙা। এটা খুব জনপ্রিয় খেলা। চোখ বাঁধা অবস্থায় অদূরে পড়ে থাকা হাড়ি ভাঙতে হয়। যে ভাঙতে পারে বা হাড়ির কাছাকাছি জায়গায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাদের মধ্য থেকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। চোখ বাঁধা অবস্থায় হাড়ি ভাঙার জন্য কে যে কোনদিকে যায় তার কোন হুঁশ নেই। দেখে খুব মজাই লাগে। আমিও চেষ্টা করেছিলাম। কাজ হয়নি কাছাকাছি গিয়েও। এভাবে একাধারে টিপ পড়ানো, তিনপায়ে দৌড়, মেয়েদের টার্গেট শট, মোমবাতি জ্বালানো, সুঁইয়ে সুতা পড়ানো ও সম্মিলিত খেলা পিলো পাসিংসহ সবখেলা একটার পর একটা করে অনুষ্ঠিত হলো।

দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পরে শুরু হলো আসল খেলা। ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা। সাপোর্টারদের ফুটবল ম্যাচ। টানটান উত্তেজনা নিয়ে ম্যাচ শুরু হলেও সবশেষে সেটা একতরফা আর্জেন্টিনা সাপোর্টারদের হয়ে যায়। কারণ, ব্রাজিল সাপোর্টারদের তেমন কেউ খেলাই পারে না। ৯-০ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। তাদের বেশি গোল দেয়াটা সৌদির সাথে হেরে যাওয়ার দুঃখ ঘুচানো বলে মনে হচ্ছিলো।

ইবির অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন ‘তারুণ্য’ কর্তৃক ছিলো আজকের এই বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব। প্রতি বছরেই এই উৎসব পালিত হয়। এতে তারুণ্যের সদস্যদের মাঝে একসাথে জনকল্যাণমুখী কাজ করার আগ্রহ ও উদ্দীপনা জেগে ওঠে। সকলের মাঝে তৈরি হয় ভালোবাসার বন্ডিং। আজকেও তার ব্যতিক্রম ছিলো না। হাসি-তামাশা, গল্প-গুজব, প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণে মেতে উঠেছিলাম সবাই। আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিলো সবার মাঝে। সবাই মিলে দিনব্যাপী উৎসবমুখর সময় কাটিয়ে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে ফিরে যাই আপন গন্তব্যে।

তাং: ২৪.১১.২০২২ ইং

প্রকাশিত:
• দৈনিক যায়যায়দিন (০৩.১২.২২)
লিংক: https://www.jaijaidinbd.com/feature/campus/310381
• দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ (১১.১২.২২)
লিংক: https://shorturl.at/fkuL0